ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ , ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন মামুন কে অপহরণ, মারপিট ও সাড়ে ৫ লক্ষ টাকা ছিন্তাই।

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৪-১৪ ১৩:০৪:৩৮
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন মামুন কে অপহরণ, মারপিট ও সাড়ে ৫ লক্ষ টাকা ছিন্তাই। দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন মামুন কে অপহরণ, মারপিট ও সাড়ে ৫ লক্ষ টাকা ছিন্তাই।
দিনাজপুর প্রতিনিধি
ফুলবাড়ী উপজেলার দক্ষিণ সুজাপুর গ্রামের আলহাজ্ব আব্দুর রাজ্জাক এর পুত্র মোঃ দেলোয়ার হোসেন মামুন এর ফুলবাড়ী থানায় গত ১৫/০৩/২০২৬ইং তারিখে ১। মোঃ জাহাঙ্গীর হাসান মিলন (৩৮), পিতা-আব্দুল মোন্নাফ মন্ডল, সাং-দক্ষিণ সুজাপুর, উপজেলা-ফুলবাড়ী, ২। মোঃ জাকির হোসেন। (৩৫), পিতা-মোঃ আব্দুস ছালাম, সাং-চক্কবির, উপজেলা-ফুলবাড়ী, ৩। মোঃ মেজবাউল আলম (২৮), পিতা-মৃত আমজাদ হোসেন, সাং-ছোট মানুষ মুড়া কাদিপুর, উপজেলা-বিরামপুর, ৪। মোঃ রিজওয়ান, পিতা-মোঃ মাসুদ রানা, সাং- আশরতপুর, রংপুর সদর, রংপুর, ৫। মোঃ তারেক মুন, পিতা-মোঃ মোজাম্মেল হক, ৬। মোঃ তৌফিকুল ইসলাম তুর্য (৪৫), পিতা- শামসুল ইসলাম, সাং- নয়নপুর, দিনাজপুর সদর ৭।

মোঃ সাজু আহাম্মেদ (৩৮), পিতা- মৃত আফসার আলী সরকার, সাং-রানীগঞ্জ (হাজিপাড়া), ০৩নং ফাযিলপুর ইউনিয়ন, দিনাজপুর সদর, ৮। মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান (৩৬), পিতা- রজব আলী সরকার, সাং- রানীগঞ্জ (হাজিপাড়া), ০৩নং ফাযিলপুর ইউনিয়ন, দিনাজপুর সদর, ৯। মোছাঃ মিনারা, পিতা- মোঃ আব্দুল মোন্নাফ মন্ডল, সাং- বিরামপুর কলেজপাড়া, বিরামপুর ১০। মোছাঃ মোসলেমা, স্বামী-মৃত আমজাদ হোসেন, সাং-ছোট মানুষ মুড়া কাদিপুর, উপজেলা-বিরামপুর, ১১। মোছাঃ রিজি, স্বামী-মোঃ জাহাঙ্গীর হাসান মিলন, সাং- দক্ষিণ সুজাপুর, ফুলবাড়ী, ১২। মোছাঃ ফেন্সি আরা, স্বামী-মোঃ আব্দুল মোন্নাফ মন্ডল, সাং-পুখুরী মোড়, ফুলবাড়ী, দিনাজপুর কে আসামী করে একটি এজাহার দায়ের করেন। 

মোঃ দেলোয়ার হোসেন (মামুন) জানান যে, আমি গত ইং ২৬/০৩/২০২৬ তারিখে ভাতিজির বিবাহ সম্পূর্ণ করিয়া রাত্রী অনুমান ১০:৩০ ঘটিকার সময় আমার দোকানের হিসাব নিকাশ শেষে দোকান বন্ধ করে মটর সাইকেলযোগে বাড়ীতে যাওয়ার পথে উক্ত তারিখে রাত্রী আনুমানিক সাড়ে ১০ ঘটিকার সময়ে কামারপাড়া বাঁশঝাড় তিন রাস্তার মোড় সংলগ্ন স্থানে উত্তর দিকে রাস্তায় পৌঁছামাত্র উল্লেখ ব্যক্তিরা হঠাৎ করিয়া সাদা রংয়ের ২টি মাইক্রোবাস নিয়ে এসে আমার পথরোধ করে সকলেই মাইক্রোবাস হইতে নেমে এসে এলোপাথারীভাবে আমাকে মারতে থাকে এবং মোঃ জাহাঙ্গীর হাসান মিলন এর হাতে থাকা ধারালো ছোরা বের করে আমার গলায় লাগিয়ে দেয় এবং বাকি ব্যক্তিগণ আমাকে জোর পূর্বক মাইক্রোবাসে ধাক্কা মারিয়া তুলিয়া হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণ করে নিয়ে যায় এবং মাইক্রোবাসের মধ্যে মোঃ জাহাঙ্গীর হাসান মিলন আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আমার চোখ অন্ধ করার উদ্দেশ্যে বাম চোখের মধ্যে কিল ঘুষি মেরে রক্তাক্ত কালশিরা জখম করে এবং অন্যান্য ব্যক্তিগণ আমার দুই পায়ে এবং সারা শরীরে এলোপাথারী ভাবে কিল ঘুষি মারিতে থাকে। পরবর্তীতে মোঃ জাহাঙ্গীর হাসান মিলন আমার প্যান্টের ডান পকেট থেকে জোর পূর্বক অসৎ উদ্দেশ্যে ১,৫০,০০০/- (একলক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা কেড়ে নেয় এবং আমার দোকানের ব্যবসায়ীক ৪,০০,০০০/-(চার লক্ষ) টাকার ব্যাগটি মোঃ মেজবাউল আলম ব্যাগে থাকা দোকানের চাবি জোর পূর্বক কেড়ে নেয়। আমার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন মোছাঃ মিনারা কেড়ে নিয়ে বন্ধ করে রাখে অন্যান্য ব্যক্তিরা আমাকে মৃত্যু ভয়ে ভীত দেখিয়ে জোর পূর্বক ফাঁকা ১০০/-টাকার ৩টি ষ্ট্যাম্প ৩০০/-(তিনশত) টাকার নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়। পরবর্তীতে আমার দুই চোখ গামছা ও দুই হাত ও দুই পা দড়ি দিয়া বেঁধে রাখে। মোছাঃ মিনারা, মোছাঃ মোসলেমা ও মোছাঃ রিজি বলে যে, এখনো পর্যন্ত জীবিত আছে কেন তাহারা আমাকে মারিয়া ফেলার জন্য হুকুম প্রদান করে।

 আমাকে হত্যা করিতে না পেরে পরের দিন গত ইং ২৭/০৩/২০২৬ তারিখ, সকাল অনুমান ০৬:৩০ ঘটিকায় আমাকে চোখ বাধা অবস্থায় শান্তি মাদকাশক্ত নিরাময় কেন্দ্র, রংপুর নিয়ে গিয়ে ভর্তি করে দেয়। তারা আমাকে বিভিন্ন রকম ভয়ভীতি ও হুমকী প্রদান করে এবং বলে যে, উক্ত বিষয়ে কাউকে জানাইলে বা কোন প্রকার মামলা-মোকদ্দমা করলে আমাকে সুযোগমত মেরে ফেলে গুম করে দিবে বলে জানায়। তারা আরো বলে আমাকে পাগলের ইনজেকশন দিয়ে পাবনায় ভর্তি করিয়া দিবে উচ্চস্বরে বলিতে থাকে। আমার পরিবারের লোকজন রাত্রীবেলায় আমাকে বাড়ীতে না পেয়ে মোবাইল ফোনে কয়েকবার মোবাইল ফোন করলে আমার মোবাইল ফোন বন্ধ পায়। পরের দিন আমাকে খোঁজাখুঁজি করিতে থাকিলে মোঃ নুরুজ্জামান বিষয়টি জানতে পেরে বিভিন্ন জায়গায় মোবাইল ফোন করতে থাকে মোঃ আহসান হাবীব সাজু গত ২৮/০৩/২০২৬ইং তারিখে আনুমানিক সকাল ৭:০০ ঘটিকায় এমপির মোড়ের পূর্ব দিকে আমার মটরসাইকেলটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় পায়। কোন এক মাধ্যমে আমার অবস্থান সনাক্ত করে আমাকে শান্তি মাদকাশক্ত নিরাময় কেন্দ্র, রংপুর ভর্তির বিষয়টি জানিতে পেরে তাৎক্ষনিক ভাবে আমাকে শান্তি মাদকাশক্ত নিরাময় কেন্দ্র, রংপুর থেকে নিয়ে এসে জখম অবস্থায় আমাকে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, হাসপাতালে ভর্তি করান। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, হাসপাতালের অনুমতি সাপেক্ষে দিনাজপুর গাওসুল আযম চক্ষু হাসপাতালে চক্ষু পরীক্ষার জন্য নিয়ে যান। সেখানে পরিক্ষানিরীক্ষা শেষে পুনরায় ফুলবাড়ী হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। বর্তমানে তিনি ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমেপ্লক্স এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। 

এ বিষয়ে ফুলবাড়ী থানার এসআই মোঃ জুলফিকার আলীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মামলাটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ